
রুহ সম্পর্কিত আয়াতের উপর আলোচনা
জীলানী. জান শরীফ
বাবা দেলোয়ার হোসেন আল সুরেশ্বরী
রুহ সম্পর্কিত আয়াতের উপর আলোচনা
১। সূরা বাকারা ঃ আয়াত নং ৮৭ :- “ওয়া লাকাদ্ আতাইনা মুসা কিতাবা ওয়া কাফফাইনা মিমবাদি বিরুসুলি” “ওয়া আতাইনা ঈসা ইবনে মারিয়ামা বাইয়ানাতি ওয়াআইয়ানাহু বিরুহিলকুদুস” “আফাকুললামা জাআকুম রাসুলুম বিমা লা তাহওয়া আনফুসুকুম ইসতাকার তুম” ফাফারিকান কাজামওয়া আরিকান তাকতুলুন”। অর্থ:- এবং নিশ্চয় মুসাকে আমরা কিতাব দিয়াছি এবং ধারাবাহিকভাবে আমরা পাঠাইয়াছি তাঁহার পরে রসুলদেরকে “এবং ঈসা ইবনে মরিয়ামকে আমরা দিয়াছি সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ এবং রুহুল কুদ্দুস দিয়া তাঁহাকে আমরা সাহায্য করিয়াছি” সুতরাং যখনই তোমাদের কাছে আসিয়াছেন কোন রসুল তাহা নিয়া যাহা তোমাদের নট্স পছন্দ করে না, তোমরা কি অহংকার করো নাই? সুতরাং তোমরা কতককে অস্বীকার করিয়াছো এবং কতককে তোমরা হত্যা করিয়াছো।
প্রথম আয়াতে মহান আল্লাহ পাক উল্লেখ করলেন এবং ঈসা ইবনে মরিয়মকে আমরা দিয়াছি সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহ এবং রুহুল কুদ্দুস দিয়া তাঁহাকে আমরা সাহায্য করিয়াছি। এই রুহুল কুদ্দুস কে অনেক ফকিহগন জিবরাইল ফেরেশতা উল্লেখ করেন যা আসলে সঠিক নয়। কারন হল ফেরেশতাকে জাত প্রদান করা হয়নি অর্থাৎ ফেরেশতার নফস ও রুহ কোনটাই নাই। ফেরেশতা সিফাতি নূরের তৈরী আল্লাহর দাস। বিরোধিতা করার শক্তি ফেরেশতাদেরকে দেওয়া হয় নি। উদাহরণ ফেরেশতা জিবরাইল (আ:) সিদরাতুল মুনতাহা থেকে হুজুর পাক (সাঃ) (আঃ) কে বলেন এখান থেকে এক কদম যাবার অনুমতি আমার নেই। গেলে পুড়ে ভস্ম হয়ে যাব মিরাজ এর বর্ননাতে অথচ কোরান বর্ননা করলেন দুই ধনুকের ব্যবধান বা আরও নিকটে। এজন্য ওলিদের বর্ণনায় পাওয়া যায় দোনে হিকা শেকেল এক হায় কিসকো খোদা কাহু” দুজনের চেহারা দেখতে একই তাহলে কাকে খোদা বলব।

জিন এবং মানুষের নফস এর সাথে রুহ কে অর্থাৎ আল্লাহর হুকুম দেওয়া হয়েছে এ কারনে মানুষ শ্রেষ্ঠ (জীন জাতির কথা এড়িয়ে গেলাম) কামেল সাধকগন খান্নাস মুক্ত পবিত্র নফসের উপর রুহ জাগ্রত ধারণ করে তখন তাদের কথা বার্তা তাদের আদেশ উপদেশ এবং তাদের বানীগুলো সাধারন মানুষের কাছে অপছন্দনীয় বা ঝামেলাময় মনে হয়। এ জন্য তারা আর মানতে রাজী হয় না। খান্নাসের কর্তৃত্ব বহন করে পরিচালিত হবার দরুন এমন বিরুপ প্রতিফলন ঘটে এ জন্য প্রকৃত সত্যকে নিরুৎসাহিত করতে দ্বিধাবোধ হয় না। নিজেকে উত্তম মনে করে। তাই যিনি নিজেকে মুক্ত করতে পেরেছেন খান্নাস হতে তখন রুহ জাগ্রত হয়ে নিজের উপর বিকশিত ও প্রকাশিত হয়ে ধরাধামে বিচরন করে। তারই সিদ্ধান্ত স্বরুপ আয়াতে কারিমাতে উল্লেখ রয়েছে যে, ঈসা মসিহকে আমরা দিয়াছি সুস্পষ্ট নিদর্শন সমূহ এবং রুহুল কুদ্দুস দিয়া তাঁহাকে আমরা সাহায্য করিয়াছি। অর্থাৎ জীবন রহস্যের পরিচয় বিশেষত স্পষ্টভাবে দান করিয়াছেন এবং তাঁহাকে শক্তিশালী করিয়াছেন রুহুল কুদ্দুস দ্বারা। “রুহ” সবার মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় আছে। যিনি মমিনে রুপান্তর হইয়াছেন। উল্লেখিত কর্ম সম্পাদন দ্বারা তাঁহার রুহ জাগ্রত। রুহুল কুদ্দুস অর্থ স্থান পবিত্র কারী রুহ। কালাম পাকের অন্যত্র আছে আমরা রুহুল কুদ্দুস দ্বারা মোমিনগনকে শক্তিশালী করি। এক কথায় মোমিনের রুহ তাঁহার আপন দেহকে যেমন পবিত্র করিয়াছে তেমনি ভাবে অপর ব্যক্তির দেহকেও পবিত্র করিবার ক্ষমতা রাখে। এবং তাঁহার স্মৃতি বহন কারীস্থান ও পবিত্র। মানুষ ইন্দ্রিয় পরায়ন হয়ে ভোগ বিলাস ও আরাম প্রিয় এ জন্য এমন ব্যক্তিবর্গ গল্প করতে ভালবাসে। তাই আত্ম শুদ্ধির দিকে মনোনিবেশ করতে চায় না। আত্ম অহংকারে (আত্মত্ম শুদ্ধির) বিমুখ থাকে। এ জন্য মহাপুরুষদের মুলধারার বিধান ধরাধামে যাঁরা শিক্ষাদান করে তাদের উপর মিথ্যা অপবাদ দিতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। গুলি মাশায়েখগনকে অনুস্বরণে গাফেল থাকে এজন্য পূর্ণতা প্রতিফলন হয় না।
২। সুরা বাকারা: আয়াত নং ২৫৩ :- “তিলকা রসুলু ফাদ্দালনা বাদাহুম আলা বাদিন” “মিনহুম মান কাললামা আল্লাহু ওয়া রাআফা বাদাহুম দারাজাতিন” “ওয়া আতাইনা ঈসা ইবনা মারিয়ামা বাইইনাতি ওয়া আইয়াদনাহু বিরুহি কুদ্দুসি” “ওয়া লাও শাআ আল্লাহু মা ইকতাতালা আললাজিনা মিন বাদি হিম মিম বাদী মাজাআতহুম বাইনাতু ওয়া লাকিনি ইকচালাফু ফামিনহুম মান আমানা ওয়া মিনহুম মান কাফারা” “ওয়া লাও শাআ আল্লাহু মা ইকতাতালু” “ওয়া লাকিনা আল্লাহা ইয়াফআলু মা ইফরিদু”। অর্থ :- ঐ রসুলগন আমরা ফজিলত দিয়াছি তাহাদের কাহাকেও কাহারও উপর “ তাহাদের মধ্য হইতে আল্লাহ কথা বলিয়াছে কাহারও (সাথে) এবং মর্যাদায় উর্ধ্বে স্থান করিলেন তাহাদের কেহ কেহকে “এবং আমরা দিয়াছি মরিয়মের ছেলে ঈসাকে উজ্জ্বল প্রমাণ এবং আমরা তাঁহাকে (ঈসাকে) সাহায্য করিয়াছি খুব পবিত্র রুহের দ্বারা” “এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা পরস্পর যুদ্ধ করিত না তাহাদের পর হইতে যাহারা, যাহা তাহাদের কাছে উজ্জ্বল প্রমাণগুলি আসিয়াছিল ইহার পরেও এবং কিন্তু তাহারা মতবিরোধ করিল সুতরাং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ ঈমান আনিল এবং তাহাদের মধ্য হইতে কেহ কুফরি করিল” “এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করিতেন তাহারা একে অপরকে হত্যা করিত না “ এবং কিন্তু আল্লাহ করেন যাহা চাহেন।
২ নং সূরা বাকারা ২৫৩ নং- আয়াতের উল্লেখ হলো রসুলগনের উপর কাহাকেও তিনি (আল্লাহ) ফজিলত দান করেছেন (বেশী কম) উল্লেখ আবার কারো কারো সাথে কথা বলিয়াছেন এবং মর্যাদার উর্ধে স্থাপন করলেন কাহাকেও। উল্লেখিত কথা দ্বারা মহান আল্লাহ মর্যাদার বিষয় ও ফজিলতে একজন হতে আরেক জনকে বেশী ঘোষনা টুকো উল্লেখ। যেহেতু এই মর্যাদার বিভাজনটি রসুলগনের মধ্যে তিনি (আল্লাহ) করেছেন সেহেতু এ বিষয়ে কিছু বলা অবান্তর বৈকি? এই বাক্যে একজন হতে অন্য জনকে অধিক পরিমানে আত্বিক শ্রেষ্ঠত্ব আল্লাহ দান করেন ইহাই উল্লেখ। সাধকগনের চাহিদা অনুসারে তিনি এক এক জনকে এক প্রকার ফজল (আত্মিক উৎকর্ষ) দান করিয়া থাকেন। একাগ্রভাবে যে যাহা চায় তাহাই তিনি তাহাদিগকে দিয়া থাকেন। সুতরাং মানুষের উচিত রুহুল কুদ্দুস লাভ করিবার জন্য উচ্চতম ব্যক্তিগনের অনুকরণ ও অনুসরণ করা।

মহা পুরুষগন মানুষকে তাহার জীবন ব্যাখ্যাই দিয়া থাকেন। অতঃপর আল্লাহ বলেন ময়িরম পুত্র ঈসা রুহুল্লাহ (আঃ) কে উজ্জ্বল প্রমান বাইইনাত দান করেছেন। এই বাইইনাত বলতে বা উজ্জল প্রমান বলিতে আল্লাহ কি বোঝাতে চেয়েছেন। হয়রত ঈসা রুহুল্লাহ (আঃ) দোলনাতে শুয়ে শুয়ে কথা বলতেন। তিন দিনের শিশু অবস্থায় কথা বলার দৃষ্টান্ত শুধু মাত্র ঈসা রুহুল্লাহ (আঃ) এরই পাওয়া যায়। এমন দৃষ্টান্ত উল্লেখ কালামপাকে যাকে উজ্জ্বল প্রমান বাইইনাত বলে সাব্যস্ত করেছেন। দোলনায় শুয়ে ঈসা রুহুল্লাহ যখন মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন তখন সেই মানুষেরা অবাক বিষ্ময়ে হতভম্ব হয়ে যেত। এবং ভক্ত তথা মুরিদ হয়ে যেত। আবার উক্ত আয়াতে কারিমাতে মরিয়ম পুত্র ঈসাকে শক্তিশালী করার কথা উল্লেখ রুহুল কুদ্দুস বা অতি পবিত্র রুহ দ্বারা । এজন্য আত্মিক উৎকর্ষ অর্জিত সাধকগন মহাপুরুষের অনুসরণ করে এই রুহুল কুদ্দুস লাভ করেন, সাধকগনকে রুহুল কুদ্দুস দ্বারা শক্তিশালী করা হয়। এখানে আলোচনার আয়াতে কারিমাতে এই রুহুল কুদ্দুসের কথা উল্লেখ রহিয়াছে। রুহুল কুদ্দুস অর্থ হল স্থান পাক বা পবিত্রকারী রুহ। দেহ এবং বস্তু পবিত্রকারী রুহ। অর্থাৎ শক্তিশালী রুহ সাধকের উপর অবতরণকৃত নূরে মোহাম্মাদী কে রুহ বলে সাব্যাস্ত করা হয়। এই রুহ সাধকের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হইয়া সাধকের দেহ মনকে পবিত্র করিয়া তোলে। তখন এই রুহকে রুহল কুদ্দুস বলে। সেহেতু ইহা স্থান পবিত্রকারী রুহ রুপে প্রতিষ্ঠিত লাভ করিয়াছে। আল্লাহর এত বড় প্রমাণ সমূহ দেখার পরও মানুষ উহা হতে শিক্ষা গ্রহণ না করে পরস্পরে হিংসা, বিদ্বেষ, মারামারি, হত্যাযজ্ঞ, এমন কি ভয়াবহ যুদ্ধের সম্মুখীন হয়ে আছে এবং থাকবে, মানুষকে সিমিত ইচ্ছা শক্তি দান করবার দরুন কেহ ঈমান আনবে আবার কেহ কুফুরী করবে। ভাল এবং মন্দের লীলাখেলাটি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে অনেক রুপ ও রঙে এবং অনেক রকম লেবাসে। যদি হস্তক্ষেপ আল্লাহ করতেন তাহলে এই হত্যাযজ্ঞের লীলাখেলাটি চিরদিনের জন্য বিলুপ্ত ঘটত। আয়াতে আলোচনা বা পর্যালোচনা বিষয়গুলো মেলে ধরা হলো। পরিশেষে সর্ব প্রকার দোষ (মন্দ) হতে আল্লাহ রব্বুল আলামিন ও জাল্লাশানাহু সম্পূর্ণ মুক্ত বা স্বাধীন
৩। সুরা আন-নিসাঃ আয়াত নং ১৭১ :- ইয়া আহলাল কিভাবে লাভাগলু ফীছিনেকুম ওয়ালা তাকুলু আলাললাহে ইললাল হাককা” ইননামাল মাসিহু ঈসাবনু মারিয়ামা রাসুলুলল্লাহে ওয়া কালিমাতুহু” “আলকাহা ইলা মারিয়ামা ওয়া রুহুহুন মিনহু” “ফাআমেনুবিললাহে ওয়া রুসুলীহী ওয়ালা তাকুলু সালাসাতুন” “ইনতাহু খাইরাললাকুম” “ইননামাললাহু ইলাহুন ওয়াহেদুন সুবহানাহু আইইয়াকুনা লাহু ওয়ালাদুন” “লাহু মা ফীসসামাওয়াতে ওয়ামা ফীলআরদে” “ওয়া কাফা বিললাহে ওয়াকীলান”। অর্থ:- হে আহলে কিতাবিগণ! তোমরা তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে এবং আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ব্যতীত কিছু বলিও না” “নিশ্চয়ই মরিয়ম পুত্র ঈসা মসীহ আল্লাহর রসুল এবং তাহার কথাও আল্লাহর” মরিয়মের দিকে তিনি (আল্লাহ) যাহা নিক্ষেপ করিয়াছিলেন তাহা ছিল তাঁহার (আল্লাহর) রুহ (হুকুম)” সুতরাং তোমরা আল্লাহ এবং তাঁহার রসুলের প্রতি ঈমান আনায়ন কর এবং তিন (৩) বলা হইতে বিরত থাকো” “যদি তোমরা বিরত থাকো, তাহা হইলে তোমাদের মঙ্গল হইবে। ” নিশ্চয়ই আল্লাহ তিনিতো এক ইলাহ (উপাস্য) তিনি ভাসমান সত্তা (পবিত্র) ভাবে কিতাব তাঁহার জন্য তোমরা সন্তান (সাব্যস্ত) কর? আকাশসমূহ এবং পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সব কিছুই তাঁহার জন্য” “এবং অভিভাবক (উকিল) হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট”।সূরা আন-নেছা: আয়াত ১৭১ :- আয়াতে কারিমার শুরুতেই বলা হলো হে আহলে কিতাবিগন তোমরা তোমাদের দ্বীন সম্পর্কে এবং আল্লাহ সম্পর্কে সত্য ব্যতীত কিছু বলো না। অর্থ তোমরা তোমাদের ধর্মের মধ্যে গলফাঁস করিওনা বা বাঁধা পড়িয় না। ধর্ম রাশির উপর সালাত যাকাত প্রতিষ্ঠিত না করিলে মোহ বন্ধনে মানুষ বাঁধা পড়িয়া যায় এবং জন্ম চক্রের আবদ্ধে আবর্ত হয়। পরবর্তী বাক্যে বলা হল নিশ্চয় মরিয়ম পুত্র ঈসা মসিহ আল্লাহর রসুল এবং তাঁহার কথাও আল্লাহর। মরিয়মের দিকে তিনি যাহা নিক্ষেপ করিয়াছিলেন তাহা ছিল তাঁহার রুহ বা হুকুম। তিনি মহান আল্লাহর বানী প্রাপ্ত একজন মহা মানব এবং তিনি আল্লাহর রুহ যাহা আল্লাহ হতে মরিয়মের দিকে প্রক্ষিপ্ত হইয়াছে। মরিয়মের পুত্র কেন বলা হলো?

সবার পরিচয় বহন করে পিতার মাধামে কিন্তু ঈসা মসিহর বেলায় মায়ের
পরিচয় তথা নারীর পরিচয়ে কেন পরিচিত করা হল? ইহার প্রধান কারনটি হল
খকতির স্বাভাবিক নিয়মকে ভেঙ্গে পিতা ছাড়া ঈসা মসিহর জর গণ সমপরণ
একটি ব্তক্রধ্ীঘটনা। এই ঘটনা গোটা মানবজাতির জন বশ্মাকের
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মহান আল্লাহ। পিতা মাতার মিলানে যে সন্তান জন্ম নেয়
সেটা স্থাভাবিক নিয়ম কিন্তু মরিয়মের দিকে নিক্ষেপ করা এর অর্থ আকাশ
পাতাল ব্যবধান, ইহা সবার দৃষ্টিগোচর হয় না।তাই পিতা ছড়া ঈসা মসিহকে
মনিয়মের দিকে নিক্ষেপ করা হযাছে। এবং সঙ্গে সঙ্গ বলা হল জনুলগন
হতে ঈসা অসিহ আল্লাহর একজন রসুল কোরানের অন্যত্র নবী বল স্বীকৃত
উল্লেখ রয়েছে। তিনি রেসালত ও নবুয্যত উভয় গুনে গুনাস্বিত। অতঃপর
আল্লাহ ঈসাকে আরেক ধাপ উপরে উঠিয়ে বলেছেন কালিমাতৃহৃ” অর্থাৎ
আল্লাহর কালাম। তারপর আল্লাহ বলেন যে ঈসা মসিহ ওয়া রন মিনহ এবং
ভাহার আল্লাহ) হইতে রুহ। এখানে দেখবার বিষয় হল মে রসুল, ২য়
আল্লাহর কালাম অতঃপর আল্লাহ হতে একটি রুহ বলা হয়েছে। বিষয় কি
ববাদী চি চেতনার জানীগণ সুন্দর উপস্থাপন করে হয়তো জাতীকে সঠিক
দিক নির্দেশনাগ্তলো একদিন উপহার দেবে বা জ্ঞাত করবে। অতঃপর আল্লাহ
ক ভাবে সন্তান জর দেন না। এবং নিজে জাতও হন না সুতরাং তিন বলা
ইসারীদের উচিত হে। তিন বলা হইতে নিব থাকার মধ্যে তোমাদের একটি
কান রহিয়াছে কারন তিন বলিলে সাধারন মানুষ বিভা মধ্য পড়ার
সন্তাবনা রয়েছে। এজন্য তিন বলতে কোরান নিষেধ করেছেন। (তিন এর
বিষয়টা আমার পরিপূর্ণ বোধগম্য নয়) অতঃপর নিশ্চয় আল্লাহ ভিনি তো এক
ইলাহ (পাস), তিনি ভাসমান সন্ত (পবিত), কিভাবে তীহার জন্য তোমরা
সন্তান সোবা) করঃ আকাশ সমূহ এবং পূথিবীতে যাহা কিছু আছে, সব কিছুই
তাহার জন্য অবিভাবক হিসাবে আল্লাহই যথেষ্ট । যেহেতু বিশরান্ত লাঘবের জন্য
আল্লাহ স্বরণ করিয়ে দিলেন তিনি এক ইলাহ অর্থাৎ তাহার সর্ব প্রকার
অবস্থানের মধ্যে একই উপাসা রূপে আছেন। আকাশ ও পৃথিবীর উপমা সহ
সকল কিছুই আল্লাহর এবং মুল সন্তা পরিপূর্ণতা দানে মহান আল্লহ যথেষ্ট।
তিন এর বিষয়ে শাহ সুফি সদর উদ্দীন আহম্মেদ চিশতী উক্ত আয়াতে ৩ এর বিষয়টি ত্রিত্ববাদ সংক্ষেপে উল্লেখ পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হইল। সংক্ষেপে ত্রিত্ববাদ হইল। আল্লাহ সত্ত্বা বিকাশের দিকে তিনটি পর্যায়ে (১) শুদ্ধ পরিমার্জিত শিষ্য পর্যায় (২) হেদায়েত ও দাতা সম্যকগুরু পর্যায় এবং (৩) মহাগুরু মোহাম্মাদ পর্যায়। এই তিন পর্যায় ব্যতীত অবশিষ্ট সবটাই পশু জগত বা অসুরের জগত। ত্রিত্ববাদের কথা বা বিষয়টি সঠিক বুঝিয়া না বলিবার কারনে তিন বলিতে নিষেধ করা হইতেছে। খৃষ্ঠান জনগন ভুল অর্থে ত্রিত্ববাদ ব্যক্ত করিয়া থাকে। এজন্য কোরান তাহদিগকে ত্রিত্ববাদের কথা না বলিবার উপদেশ দিতেছে।
৪। সূরা মায়েদা: আয়াত নং ১১০:- “ইজ কালালালাহু ইয়া ঈসাবনা মারিয়ামজকুরু নেয়েমাতী আলাইকা ওয়া আলা ওয়ালেদাতেকা” “ইজ আইইয়াদতুকা বেরুহীল কুদুসে তুকাললেমুননাসা ফীল মাহদে ওয়া কাহলান” “ওয়া ইজ আললামতুকাল কেতাবা ওয়াল হেকমাতা ওয়াত তাওরাতা ওয়াল ইনজিলা” ওয়া ইজ তাখলুকু মিনাততীনে কাহাই আতীত তাইরে বেয়েজনী ফাতানফুখু ফাঁহা ফাতাকুনূ তাইরান বেয়েজনী” ওয়া তুবরেউল আকমাহা ওয়াল আবরাসা বেয়েজনী” “ওয়া ইজ তুখরেজুল্ মাওতা বেয়েজনী” “ওয়া ইজকাফাফতু বানি ইসরাঈলা আনকা” “ইজ জেতাহুম বিল বাইয়্যেনাতে ফাকা লাললাজীনা কাফারু মিনহুম ইন হাজা ইললা সেহরুন মুবিনুন। অর্থ:- “যখন আল্লাহ বলিলেন হে মরিয়ম পুত্র ঈসা, তোমার ও তোমার মাতার প্রতি আমার নিয়ামতের (অনুগ্রহ) কথা জিকির (স্মরণ) কর” “যখন রুহুল কুদ্দুস দ্বারা তোমাকে (ঈসাকে) সাহায্য করিলাম, তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় অপরিণত বয়সে মানুষের সাথে কথা বলিতে” “আর আমি যখন তোমাকে কেতাব এবং হিকমত (বিজ্ঞান) এবং তাওরাত ও ইনজিল শিক্ষা দিলাম” “এবং যখন তুমি আমার নির্দেশে মাটি হইতে পাখি আকৃতি (সৃষ্টি) তৈরী করিলে অতঃপর তাহাকে ফুঁক দিলে তখন উহা আমার নির্দেশে পাখি হইয়া যাইত” “এবং তুমি আমার নির্দেশে জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠ রোগীকে ভাল করিতে” “এবং যখন তুমি আমার নির্দেশে মৃত ব্যক্তিকে (কবর হইতে) বাহির করিতে” এবং যখন বনি ইসরাঈলগণকে তোমার থেকে আমি বিরত রাখিলাম” “যখন তুমি তাহাদের নিকট বাইয়্যেনাতসহ আসিলে তখন তাহাদের মধ্যে যাহারা কাফের তাহারা বলিল এটাইতো প্রকাশ্য জাদু বৈকি আর কিছুই না ।
আয়াতে কারিমার শুরুতেই বলা হল:- হয়রত ঈসা (আঃ) বলিলেন তোমার ও তোমার মাতার প্রতি আমার নেয়ামতের কথা জিকির (স্মরণ) এবং রুহুল কুদ্দুস দ্বারা সাহায্য সম্পর্কে তুলে ধরা হল মায়ের কোলে বা দোলনায় শিশুটি কি ভাবে মানুষের সাথে কথা বলতে পারে? কেমন করে এই শিশুটিকে কেতাব ও হিকমত দেওয়া যেতে পারে। ইহা একটি ব্যতিক্রম আশ্চর্যজনক ঘটনা বটে। শুধু কিতাব আর হেকমত? সেই সঙ্গে দুই দুইটি প্রশিদ্ধ কেতাব (সহিফা ) একটির নাম তাওরাত এবং অপরটির নাম ইঞ্জিল শিক্ষা দিয়েছেন দোলনায় থাকা অবস্থায়। আল্লাহর এত বড় অপরিসীম দান সত্যিই মানব জাতিকে ভাবিয়ে তোলে। এ খানেই শেষ নয়, সেই সাথে উল্লেখ হল মাটি দিয়ে একটি পাখির মত আকৃতিতে তৈরী করে তাহাতে আল্লাহর হুকুমে ফুৎকার দিলে উহা সঙ্গে সঙ্গে জীবন্ত পাখিতে পরিণত হয়ে যেত। দেখবার বিষয় হলো ফুৎকার করে ঈসা মসিহ আল্লাহর হুকুমে তা কার্যকারীতা পায়। কিন্তু পাখির রুহ নেই। এটা থাকবার প্রশ্নই ওঠে না। আল্লাহর প্রতিনিধিত্বের ধারা গুলো এভাবেই নবী রসুল দ্বারা স্বাক্ষর রেখেছেন মহান আল্লাহ পাক। সেই সঙ্গে আল্লাহ আরও বলেছেন আয়াতে কারিমাতে জন্মান্ধ এবং কুষ্ঠ রোগীকে আল্লাহর হুকুমে ভাল হবার কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তা ভাল হয়ে যেত। অতঃপর কথাটি অবাকেও অবাক করা কথা তা হল মৃত ব্যক্তিদের কে আল্লাহর হুকুমে জীবিত হও। বলার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত হয়ে যেত। এত নিদর্শন এবং বনী ইসরাঈল থেকে বিরত রাখার কথা উল্লেখ অতঃপর নবী রসুল রুপে মেনে নেওয়া তো দূরের কথা জখন্য ভাষায় বলত এটা প্রকাশ্য যাদু। মুলত কাফের যারা তারাই এ ভাবে কালে কালে সত্যের আগন্তককে মেনে নেয়নি। এটাই হয়ত অঘোষিত তকদির বলা চলে। ঈমান আনায়ন শব্দটি তাদের কপালে লিখা নাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেক ওলীগন বলে থাকেন ওলীর দরবারে যাও, ওলীর দরবারে গেলে তকদির পরিবর্তন হয় এটাই সমসাময়িক। কিন্তু আয়াতে কারিমাতে উল্লেখিত ঈসা (আঃ) এর কার্য বিবরণী কোরানে উল্লেখ দৃষ্টান্ত স্বরুপ।
৫। সূরা হিজর : আয়াত নং ২৯:- “ফা ইজা সাওয়াইতুহু ওয়া নাফাখতু ফিহি মিন রুহি ফাকাউ লাহু সাজিদিনা”। অর্থ:- সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হইতে, সুতরাং তোমরা তাহাকে সেজদা করো”।
১৫ নং সুর হিজর আয়াত -২৯ ৮ সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং
আমি মুর দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হইতে: সুতরাং তোমরা তাহাকে
সে করো”। আয়াতে কারিমায় আল্লাহ (আমার) ও রুহ উই এক বচন
সাত আল্লাহ কখনও আমরা এবং কখনও আছি বা আমার বাবহার করেছেন
এখানে আদম সৃষ্টি অর্থাৎ সিদ্ধ পুরু সৃষ্টির সুসংবাদ ভন্তগনের মধ্যকার
(ফেেশতাগনকে দেওয়া হইতেছে। সেহেতু ফেরেশতার মত ভাব অত না
হলে আদম পর্যায়ে পৌছানো স্ব ন়। ইহার কারন হলো ফেরেশভাগনই শুধু
আদমের নিকট পরিপরণভাবে আহা সমর্নকারী হা খাকে। মানবীয় বৃত্তি
লোকে বন পর্বত গলি সুসংব্ধ রয় বলত চর বানাইয়া আপন
ছে উদঘাটন ঘটাইলে তখন আদম আপন রবের বা রুর মহত লাভ করেন
এই পরায় বা্তিকে সেজদা বা (তাহার নিকট আত্মসমর্পন করিয়া মুত লা
করিতে হয়। আলা বলেন আমি ফুকার দেই ইহা মধ্যে আমার কহ মোট
থা টির অর নহে। সজনী শির অধিকারী প্রতিটি মানুষের
সঙ্গে রব পে শাহ রদের নিকটে অবস্থান করে|
রা আন-নাহ : আয়াত নং ০২০. -ইউনাজজিলুল মালাইকা বদলি
মিন আমরিহি আলা-মাই-ইয়াশাউ মিন ইবাদিহি আন আনজির আননাহু লাই-
‘লাহা ইললা-আনা ফাততাকুনি” । অর্থ- “নাজেল করেন ফেরেস্তাদেরকে রুহের
হত তাহার হুম হইতে যাহার উপর ইচ্ারেন হা বান্সাদের হইতে যে
(তোমরা সাবধান করিয়া দাও অবশাই ইহা নাই ইলাহ একমাত্র আমি, সুতরাং
অসার তাকওয়া করো।
১৬ নং সুরা আন-নাহল ০২ নং আয়াতে– নাজেল করেন ফেরে্দেকে
রুহের সহিত তাহার হুম হইতে যাহার উপর ইচ্ছা করেন তাঁহার বান্দাদের
হতে যে তোমরা সাবধান করিয়া দাও অবশাই ইহা নাই ইলাহ একমার আমি
সুতরাং আমার তাকওয়া করো আয়াতে কারিমায় প্রথমেই বলা হলো ফেরেস্তা
নাজেল করেন এবং সেই সাথে রক নাষেল করার কথাটি এই আয়াতে সংযুক্ত
হয়ছে। ফেরেস্তা এবং রুহ দুইই এক নয়। বরং টি সমপূ্ আলাদা এবং ভিন
এটাই পরার উল্লেখ রয়েছে জায়াতে।
জিব্রাইল, নিকাইল, ইসরাফিল ও আরাইল এরা সবা ফেরেশতা। শুধুই
ফেরেশতা কিন রুহ বিষয়টি পৃথক রাখতে আয়াতে কারিমাতে পূথকভাবে উল্লেখ
রাখা হয়েছে। অতপর মিনি নকপকে রুহের জাগরণ সম্প্র করেছন। অথাৎ
গু নি্দেশিত মোরাকাবা মোশাহেদার মাধ্যমে পূর্ণতা অর্জিত হলেই বেবল
আল্লাহর হুম হার দিকে ধাবিত হয় আল্লাহর ইচ্া অর্থাৎ এখনে ইচ্ছার
উপমুক্তায হল পূর্ণতা সকল মান মানবীর মধ্য হইতে নির্বাচন এবং
তাদেরকেই সাবধান করার ভাগিদ করা হয়েছে আল্লহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই
এজন্য তাকওয়া করো এবং ভয় করার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে অর্থাৎ একেই
কাশ একেরই বিকাশ তাই একের অর্থাৎ মূলের জাগরণ হলেই কেবল ভীর
াদীতে এই সাবধান বা সতর্ক বার্তা করানোর দন স্থাপন করেন সেই মহিয়ান
গরয়া সুমহান শা কি এক অপূর্ব তিনি ধারা এবং এক এক ভনকে
বিশেষ করতৃের ক্ষমতাও দান করেছেন। সার কথা এক বাক্যে বলা হুল নাই
কেন ইলাহ এক তর আল্লহ ছড়া বিজ্ঞানের ও বি্ানময কোরান
৭। আন-নাহাল: আয়াত নং ১০২:- – কুল নাজজালাহু রুকুদদুসি মির
রাববিকা বিল হাককি লিইউসাব্িতাল আললাজিনা আমানু ওয়া হুদা ওয়া
বরা-লিলমুলিমিন”।অ্থ- * তিনিই নাজেল করেন রন কুনু তোমার রব
হতে সভাসহ প্রতিষ্ঠা করিবার জনয যাহারা ঈমান আনিযাছে এবং হেদায়েত
এবং সুসংবাদ মুসলমানদের আতাসম্ণকারীদের| জন্য”
১৬ নং সূতা আন-নাহাল: আয়াত নং ১০২৫ আয়াতে ০” তিনিই নাজেল করেন
রুল কুদ্ছুম তোমার রব হইতে সত্সহ প্রতিষ্ঠা করিবার জনয যাহারা ঈমান
‘আনিয়াছে এবং দেহায়েত এবং সুসংবাদ সুসলমানদের [জহাসদপরকারীদর!
জনা” । আয়াতে কারিমায় শুরুতেই নাজেল কথাটি এসেছে তাই ইহা কি অতীত
কালের মধ্য ধরে রাখা যয? ইহা বর্তমান, রুহ নাজেল হইলে উহা নফসের
উপর করত হযে যয এটাই পূর্ণতার অবগাহনের একটি রুপ সাধক জীবনে ।
(অতঃপর তোমার রব হইতে 15101501 (তোমাদের) বগা হানি অর্থাৎ ব্যক্তি
কেনদ্ক সাধনার কারী রুপ। যারা ঈমান এনেছে তাদের জন্য একটি
সুসংবাদও বটে সতাকে প্রতিষ্টা করিবার জন্য কালে কালে ষ্টার প্রনিত
প্রতিনিধির প্রতি রুহ নাজেল আয়াতে কারিমায় সেই সাক্ষতা বহন করে চলেছে
দর্শনবাদই এই সম্পর্কে পরিপূর্ণতা দান করে। এরপরেও কালাম পাকে উল্লেখ এ সম্পর্কে খুব কমই জ্ঞান দান করা হইয়াছে। তাই সংক্ষিপ্ত আকারে উল্লেখ রাখতে চাই তা হল এই এলমে লাদুনির মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানীগন কালাম পাকের রুহ সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করলে তা প্রকৃত সত্য এবং সুন্দর রুপে প্রতীয়মান হয়। হাদিস শরীফে এসেছে রুহ আমার রবের আদেশ, নির্দেশ ও কাজ।
৯। সূরা মরিয়ম : আয়াত নং ১৭:- “ফাততাখাজাত মিন দুর্নিহিম হিজাবান ফা আরসালনা ইলাইহা রুহানা ফাতামাসসালা লাহা বাশারান সাউইইয়ান”। অর্থ:- “সুতরাং সে (মরিয়ম) তাহাদের হইতে (পরিবার-পরিজন) পর্দা গ্রহণ করিল। সুতরাং আমরা (আল্লাহ) তাহার দিকে আমাদের (আল্লাহ) রুহকে পাঠাইলাম সুতরাং তাহার জন্য উহা বাশার (পরিপূর্ণ মানুষ) রুপে প্রকাশিত হইল”।
১৯ নং সূরা মরিয়াম এর ১৭ নং আয়াতে :- “সুতরাং সে তাহাদের (পরিবার- পরিজন) হইতে পর্দা গ্রহণ করিল। সুতরাং আমরা তাহার দিকে আমাদের রুহকে পাঠাইলাম সুতরাং তাহার জন্য উহা বাশার (মানুষ) রুপে প্রকাশিত হইল”। আয়াতে কারিমাতে প্রথমেই বলা হল মরিয়ম পর্দা গ্রহণ করলেন অর্থাৎ মোরাকাবা মোশাহেদাতে একাকি মগ্ন হলেন অতঃপর আল্লাহ বহু-বচনে আমরা ব্যবহার করলেন এবং একবচনে রুহ পাঠানোর কথা ব্যক্ত করলেন। এবং সেই রুহের রুপ টিও বর্ণনা করলেন বাশার। পবিত্র কোরানের অন্য আয়াতে হুজুর পাক (সাঃ) কে বাশার লকব এ ভূষিত করবার ঘোষনা জেনে থাকি। এই পরিপূর্ণ মানব আকৃতি তথা পুরুষ আকৃতি ধারণ করেন রুহ। তবে রুহ নারী রুপ ধারণ করতে পারে কি না ইহা বোধগম্য নই তবে নারীকে রুহ ফুৎকারের ঘোষণা অন্য আয়াতে কারিমাতে উল্লেখ রয়েছে মোট কথা প্রকৃত সত্য হল প্রেরিত রুহ মরিয়মের কাছে স্বামী রুপে উপস্থিত হইলেন এবং তাঁহার নূরের সন্তান দান করিয়া গেলেন তাই এই নূরময় আলোকবর্তিকা বাশার রুপে উপস্থাপন করা হয়েছে। এজন্য জগতে পূর্নতার মানবদের উল্লেখ বাবা জুনায়েদ বোগদাদী বলেছেন “লাইসালাফি জুব্বাতি সেওয়া আল্লাহতালা” আমার এই জুব্বার মধ্যে আল্লাহ ছাড়া কিছু নাই। এমন শত সহস্র পূর্ণতার ঘোষণা ওলী, পীর, ফকির, গাউস, কুতুব, আবদাল, আরিফ, আবাদানদের ঘোষণা ইতিহাস সাক্ষী বহন করে চলেছে।
১১। সূরা শূয়ারা : আয়াত নং ১৯২, ১৯৩ ও ১৯৪ :- “ওয়া ইননাহু লাতানজিলু রাববিল আলামিন”। “নাজালা বিহি রুহুল আমিন”। “আলাকাবলিকা লিতাকুনা মিনাল মুনজিরিন। অর্থ :- এবং নিশ্চয়ই ইহা অবশ্যই নাজেল করিয়াছেন জগৎ সমূহের রব”। “নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে বিশ্বস্ত রুহ”। “আপনার কলবের উপর যেন আপনি হন সাবধান কারীদের হইতে”।
২৬ নং সূরা শুয়ারা ১৯২ নং আয়াতে – “নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে বিশ্বস্ত রুহ”। “আপনার কলবের উপর যেন আপনি হন সাবধান কারীদের হইতে”। আয়াতে কারিমায় প্রথমেই বলা হল নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে কথাটি দ্বারা আপন নফস হতে মন্দ সত্ত্বাকে মোরাকাবা মোশাহেদার মাধ্যমে তাড়িয়ে দিয়ে বা মুক্ত করে যে নফসটি বা দেহ কাঠামোটি পূর্ণতা লাভ করেছে। তখন আল্লাহ পাক ঐ নফসের নঙ্গে একাত্বতায় প্রকাশিত হন। রুহ নাজেল মাধ্যমে। তখনই তাঁর দ্বারা দুনিয়াতে প্রতিনিধীত্ব কার্য পরিচালিত হয় এতদ প্রসঙ্গে ঈমাম গাজজালী দর্শন থেকে, “আমি ঐ নূর যা লা মাকামে বিদ্যমান ছিলাম, আমি নিজেকে প্রকাশিত করবার জন্য নিজেই নিজের রুপে বিভোর হলাম, আমি কখনও মুসা, কখনও ঈসা, কখনও জাকারিয়া, এমন কি সর্বশেষ মোহাম্মাদ রুপে অবতার হয়ে দুনিয়াতে স্বীয় কার্য করে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছি”। উক্ত বানী থেকে উপলব্ধি করা যায় যে মহান স্রষ্ঠার প্রতিনিধীত্ব তাঁর স্বীয় অভিষেক নফসের উপর রুহ নাজেলের মাধ্যমে কর্তৃত্ব কর্ম পূর্ণতা প্রতিফলিত হয়। পরিশেষে বলতে চাই নূরে মোহাম্মাদীর বিস্তৃত ধারা রুপে স্রষ্ঠার প্রকৃত বিকাশ ও প্রকাশ এবং তাঁর দ্বারাই জগতে সাবধান বা সতর্ককারীগন মহান আল্লাহর স্বীয় ধর্মের কার্য সম্পূর্ণ করেন। ইহাই মহান স্রষ্ঠার অমোঘ লীলা।
১২। সূরা সাজদা : আয়াত ০৯:- “সুম্মা সাওয়াহু ওয়া নাফাখা ফিহি মির রুহিহি ওয়া জাআলা লাকুমুস সাআ ওয়াল আবসারা ওয়াল আফয়িদাতা কালিলাম মা তাশকুরুন”। অর্থ :- “তারপর তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন এবং ফুৎকার [ করিয়াছেন তাহার মধ্যে তাঁহার (আল্লাহর) রুহ হইতে এবং দিয়াছেন তোমাদের জন্য শ্রবণ শক্তি এবং অন্তঃকরণ। যাহা কমই তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো” ।
এখানে একটু ভিন্নতা তা হল অনেক তাফসিরকারক তাদের লিখনিতে রুহুল কুদ্দুস অর্থ জিবরাইল উল্লেখ করেছেন এটা আসলে সমিচীন নহে। যেখানে মহানবী হেরা পর্বতের গুহাতে মোরাকাবা মোশাহেদার মাধ্যমে নিজের নফসের উপর রুহের পরিপূর্ণরুপ বিকাশিত করেই নুবয়তের সনদ কার্য শুরু করেন। যারা মোরাকাবা মোশাহেদাতে আগ্রহী নয় তারা রুহ সম্পর্কে অজ্ঞ। এখানে মুসলমানদের কথা এসেছে সুফি মতে এই ভাবধারাকে শুধু আত্মসমর্পনকারীই নয় আরও ঊর্ধ্বে আল্লাহর দর্শনকে মোসলমান বলে এ কারনে আত্ম পরিচয়ের পূর্ণতা হল রুহ প্রাপ্তি। রুহের পরিপূর্ণ রুপটি যখন সাধকের আপন নফসের উপর প্রতিফলিত হয় উহাকেই নূরে মোহাম্মাদী বলে। আর এই নূরে মোহাম্মাদীকে আপন নফসের উপর উদ্ভাসিত করার সাধনাটিই ইসলামের মূল
কথা।
৮। সুরা বনী ইসরাইল : আয়াত নং ৮৫ :- ” ওয়া-ইয়াস-আলু নাকা আনি রুহি” “কুল রুহ মিন আমরি রাববি ওয়া মা উতিতুম্ মিনাল ইল্মি ইললা কালিলান। অর্থ:- ” এবং আপনাকে রুহ সম্পর্কে তাহারা প্রশ্ন করে ” “বলুন রুহ আমার রবের আদেশ হইতে এবং তোমাদের দান করা হইয়াছে জ্ঞান হইতে সামান্য ব্যতীত নয় । (বিঃদ্রঃ এই আয়াতে করিমায় রুহ শব্দটি দুইবার আসছে।)
১৭ নং সূরা বনি ইসরাইল ৮৫নং আয়তে:- বলুন রুহ আমার রবের আদেশ হইতে এবং তোমাদের দান করা হইয়াছে জ্ঞান হইতে সামান্য ব্যতীত নয়। মহানবীকে রুহ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মহানবী বললেন যে রুহ হলো আমার রবের হুকুম তথা আদেশ। জ্ঞান ব্যতীত মানুষ সামান্যই বুঝতে পারবে। জ্ঞান দুই প্রকার (ক) পুস্তক অধ্যায়ন পূর্বক অর্জিত জ্ঞান যাকে জাগতিক জ্ঞান বলা হয়। (খ) মহামানবের সংস্পর্শে থেকে তার দেওয়া মোরাকাবা মোশাহেদার মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞানকে এলমে লাদুনি বলে। তাই রবের আদেশ মূলত রব ছাড়া আলাদা নয়। এজন্য সাধক বছরের পর বছর মোরাকাবা মোশাহেদার মাধ্যমে নিজের নফসের ভিতরে থাকা খান্নাসী (শয়তান, ইবলিস, মরদুদ, খান্নাস) সত্ত্বাকে বিদুরিত করতে পারলেই রুহ সত্ত্বার উদ্ভাষন ঘটে। আর এই রুহ স্বত্তার উদভাষন হলে রুহের কর্তৃত্বের ধারাতে পরিচালিত হয় সাধক পূর্ণতার মান দন্ডকে কার্যকরী করবার অনুমতি পায়। রুহ সম্পর্কে ভাষায় উল্লেখ দুরূহ।
১১। সূরা শূয়ারা : আয়াত নং ১৯২, ১৯৩ ও ১৯৪ :- “ওয়া ইননাহু লাতানজিলু রাববিল আলামিন”। “নাজালা বিহি রুহুল আমিন”। “আলাকাবলিকা লিতাকুনা মিনাল মুনজিরিন। অর্থ :- এবং নিশ্চয়ই ইহা অবশ্যই নাজেল করিয়াছেন জগৎ সমূহের রব”। “নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে বিশ্বস্ত রুহ”। “আপনার কলবের উপর যেন আপনি হন সাবধান কারীদের হইতে”।
২৬ নং সূরা শুয়ারা ১৯২ নং আয়াতে – “নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে বিশ্বস্ত রুহ”। “আপনার কলবের উপর যেন আপনি হন সাবধান কারীদের হইতে”। আয়াতে কারিমায় প্রথমেই বলা হল নাজেল করিয়াছেন ইহার সঙ্গে কথাটি দ্বারা আপন নফস হতে মন্দ সত্ত্বাকে মোরাকাবা মোশাহেদার মাধ্যমে তাড়িয়ে দিয়ে বা মুক্ত করে যে নফসটি বা দেহ কাঠামোটি পূর্ণতা লাভ করেছে। তখন আল্লাহ পাক ঐ নফসের নঙ্গে একাত্বতায় প্রকাশিত হন। রুহ নাজেল মাধ্যমে। তখনই তাঁর দ্বারা দুনিয়াতে প্রতিনিধীত্ব কার্য পরিচালিত হয় এতদ প্রসঙ্গে ঈমাম গাজজালী দর্শন থেকে, “আমি ঐ নূর যা লা মাকামে বিদ্যমান ছিলাম, আমি নিজেকে প্রকাশিত করবার জন্য নিজেই নিজের রুপে বিভোর হলাম, আমি কখনও মুসা, কখনও ঈসা, কখনও জাকারিয়া, এমন কি সর্বশেষ মোহাম্মাদ রুপে অবতার হয়ে দুনিয়াতে স্বীয় কার্য করে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়েছি”। উক্ত বানী থেকে উপলব্ধি করা যায় যে মহান স্রষ্ঠার প্রতিনিধীত্ব তাঁর স্বীয় অভিষেক নফসের উপর রুহ নাজেলের মাধ্যমে কর্তৃত্ব কর্ম পূর্ণতা প্রতিফলিত হয়। পরিশেষে বলতে চাই নূরে মোহাম্মাদীর বিস্তৃত ধারা রুপে স্রষ্ঠার প্রকৃত বিকাশ ও প্রকাশ এবং তাঁর দ্বারাই জগতে সাবধান বা সতর্ককারীগন মহান আল্লাহর স্বীয় ধর্মের কার্য সম্পূর্ণ করেন। ইহাই মহান স্রষ্ঠার অমোঘ লীলা।
১২। সূরা সাজদা : আয়াত ০৯:- “সুম্মা সাওয়াহু ওয়া নাফাখা ফিহি মির রুহিহি ওয়া জাআলা লাকুমুস সাআ ওয়াল আবসারা ওয়াল আফয়িদাতা কালিলাম মা তাশকুরুন”। অর্থ :- “তারপর তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন এবং ফুৎকার [ করিয়াছেন তাহার মধ্যে তাঁহার (আল্লাহর) রুহ হইতে এবং দিয়াছেন তোমাদের জন্য শ্রবণ শক্তি এবং অন্তঃকরণ। যাহা কমই তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো” ।
এই যে কন্ট্রাডিকশন মূলক বানীগুলো একত্রিত শক্তির সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ এর বাইরে বহিঃ প্রকাশ ঘটে। দৃষ্টান্ত টুকো তুলে ধরলাম যদীও অপ্রাসঙ্গীক প্রসঙ্গ । এমন ধারাবাহিকতায় মহান রাব্বুল আলামিন আমাদের কে জানিয়ে দিলেন তোমরা কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর। মানুষের জাগতিক জ্ঞান গরিমা দ্বারা রুহকে ধারণ করা সম্ভব নয়। রুহ সম্পূর্ণ একটি রহস্যময় বিষয়।
১৩। সূরা সাদ : আয়াত নং ৭২ :- “ ফা ইজা সাওয়াইতুহু ওয়া নাফাখতু ফিহি মিন রুহি ফাকাউ লাহু সাজিদিনা”। অর্থ:- “সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হইতে, সুতরাং তোমরা তাহাকে সেজদা করো” ।
৩৮ নং সূরা সাদ ৭২ নং আয়াতে :- “ সুতরাং যখন আমি তাহা সুষম করি এবং আমি ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আমার রুহ হইতে, সুতরাং তোমরা তাঁহাকে সেজদা করো”। বাবা আদম (আঃ) এর মধ্যে আল্লাহ রুহ ফুৎকার করেছেন আয়াতে কালামে উল্লেখ ওয়া নাফাখতু ফিহি মির রুহি অর্থাৎ আমার রুহ হইতে ফুৎকার দেই ইহার মধ্যে আয়াতে পূর্বেই বাবা আদম দেহকে সুষম করি অর্থাৎ উপযুক্ততা বা পরিপূর্ণতার ইশারা বর্ণনা করেছেন। এবং সর্বশেষ উল্লেখ করা হল রুহ ফুৎকারের পর সেজদা করবার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। অনেক ফকিহগন রুহকে সৃষ্টির অন্তর্গত বলেন। কিন্তু মুল ধারার সান্নিধ্যে অর্জন কারীগন বলেন রুহ সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত নহে। রুহ সৃজনী শক্তির অধিকারী, এক কথায় রুহ প্রতিটি মানুষের সঙ্গে রব রুপে বা প্রতিপালক রুপে শাহ্গের নিকটে অবস্থান করে। একটু ভিন্নতার দৃষ্টান্ত রাখতে চাই তা হল সমস্ত রুহ সৃষ্টির পর তা ৩টি শ্রেণিতে বিভাজন করে রাখা হয়। সাধারন, নবী আম্বিয়া (আঃ), ওলী আউলিয়া ৷ ওলীদের স্থান থেকে একটি রুহ আম্বিয়া (আঃ) দিকে বার বার ছুটে যায় এমতবস্থায় ফেরেশতাগন মহান আল্লাহর স্বরণতব্য হয়, এমন পর্যায়ে আল্লাহ বলেন, আমার হাবিব কে গোটা বিশ্ব জাহানের জন্য রহমত ও আম্বিয়াদের সরদার হিসাবে প্রেরণ করব আর ছুটে যাওয়া রুহ দুনিয়াতে আব্দুল কাদের নামে বহিঃ প্রকাশ হবে তাকে আমি ওলিদের সরদার হিসাবে প্রেরণ করব।
৩২নং সূরা সাজদা ৯নং আয়াতে : অতঃপর তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন তাহার মধ্যে তাঁহার (আল্লাহর) রুহ হইতে এবং দিয়াছেন তোমাদের জন্য শ্রবণ শক্তি এবং দর্শন শক্তি এবং অন্তঃকরণ। যাহা কমই তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো”। প্রথমেই বলতে চাই তা হল প্রতিটি মানুষের সাথে বীজ রূপে রুহ দেওয়া হয়েছে এটাকে পূর্ণাঙ্গ রুহ সঞ্চালন বা কার্যকর ভাবলে প্রতিটি মানব-মানবীই পূর্ণতার অবগাহনে রুহ প্রাপ্ত বলতে হয় কিন্তু ইহা মোটেই ঠিক নয়। গুরু নির্দেশিত মোরাকাবা মোশাহেদার মাধ্যমে আপন নফস হতে (খান্নাস, ইবলিস, মরদুদ শয়তান) মন্দ সত্ত্বা গুলি দুরিভূত হলেই সেই নফসের উপর রুহের জাগরণ ঘটে আর রুহের এই আলোকিত রুপ টিকেই বলা হয় নূরে মোহাম্মাদী এই আলোকে আয়াতে কারিমার প্রথমেই বলা হল অতঃপর তাহাকে সুঠাম করিয়াছেন তাহার মধ্যে তাঁহার (আল্লাহ) রুহ হতে সেই সঙ্গে শ্রবণ শক্তি, দর্শনশক্তি এবং অন্তঃকরণ। এ প্রসঙ্গে সাধক অনুশীলনগামীগন বলতে পারবে অদৃশ্যবাদ যা সবাই দেখে না বাহ্য ইন্দ্রিয়ের কার্যকরণ সম্প্রসারণ প্রকৃয়া তরান্বিত হলে বুঝতে পারে যা ভাষায় প্রকাশ করা দূরহ। প্রসঙ্গক্রমে হয়রত মুসা (আঃ) কে আবাদান, প্রথম নদী পার হওয়ার শেষে লাঠি দিয়ে আঘাতে মাঝির নৌকা ফুটো করে দেন এই কারণ ব্যাখ্যায় তিনি উল্লেখ করেন যে জালুত রাজার (জালিম) বহর ছুটেছে তারা ঘাটে কতটুকো দূরত্বে অবস্থান করছিল তাও উল্লেখ পূর্বক ঘাটে নতুন নৌকা পেলে বহরে যোগ করে নিয়ে যাবে, সে কারনে আমি নৌকাটা ফুটো করে দিলাম। নবী মুসা (আঃ), মাঝি, আবাদান সবাই নৌকাতে কিন্তু আবাদানের দূর দৃষ্টি সম্পন্ন ব্যবস্থাই আয়াতে কারিমার শ্রবণ দর্শন ও আন্তঃকরণ হিসাবে উদাহরণ স্বরুপ উল্লেখ রাখলাম। সূরা কাহাফের আলোচনার অঙ্গিকে। সেই সঙ্গে মহান আল্লাহ পাক কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কথা স্বরণ করিয়ে দিলেন। মহান স্রষ্ঠার জাগরণ বা মহাশক্তির প্রকাশ মূলতঃ এক ভিন্ন কোন কিছুই নাই তখনই সাধকের বেপরোয়া আচরণ পরিলক্ষিত হয় যেমন মনসুর হাল্লাজ বলেছেন আনাল হক, আল্লামা ইকবাল বলেছেন দাসত্বের শৃঙ্খল হতে মানুষকে মুক্ত করেছি আমরাই তোমার কাবাকে বক্ষে ধারণ করেছি আমরাই এবং তোমার কোরানকে জমিনে প্রতিষ্ঠিত করেছি আমরাই, এর পরেও তুমি বল আমরা আনুগত্য নই? আমরা আনুগত্য না হলে তুমিও দয়ালু নও।

